কর্মক্ষেত্রে সফলতার চাবিকাঠি: দায়িত্ব, সৎ পরিশ্রম এবং পেশাগত শুদ্ধাচার
কর্মক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে হলে দায়িত্বশীলতা, সৎ পরিশ্রম এবং পেশাগত শুদ্ধাচার অপরিহার্য। কাজের প্রতি ভালবাসা ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে নিজের কাজ সম্পাদন করুন এবং সঠিক নৈতিক মান অনুসরণ করে প্রাকৃতিকভাবে পুরস্কৃত হোন।
প্রতিষ্ঠানে নিজের কাজকে পবিত্র দায়িত্ব মনে করুন।
•
দায়িত্ব নিতে শিখুন। কাজকে ভালোবাসুন। কাজের সুযোগ পেলে মন থেকে স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।
•
কর্মক্ষেত্রে কখনো বিরক্তি, বিরসভাব ও হতাশ চেহারায় থাকবেন না। বিরক্তিভাব কাজের বরকত নষ্ট করে দেয়। যত সমস্যা বা চ্যালেঞ্জই আসুক ইতিবাচক ও হাসিখুশি থাকুন।
•
কোথাও ইন্টারভিউ দিতে গেলে পূর্বতন কর্মস্থল সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করবেন না।
•
উপার্জনের উৎস সৎ ও শ্রমলব্ধ হলে কোনো কাজকেই হেয় মনে করবেন না।
•
বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ভাবতেই ব্যস্ত থাকবেন না। কাজ ফেলে রেখে এ নিয়ে সহকর্মীদের সাথে সমালোচনা-পর্যালোচনা করবেন না। নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যান। বর্তমান প্রতিষ্ঠান আপনার মূল্যায়ন করতে না পারলেও প্রাকৃতিকভাবে আপনি পুরস্কৃত হবেনই।
•
যথাযথ প্রয়াস না চালিয়ে 'কাজ হয়ে যাবে, সমস্যা নেই'- এ ধরনের বাক্য ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করুন।
•
মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। আপনার কাজে কোনো ধরনের ভুল হলে গোপন করবেন না। আপনি বুঝতে পারার সাথে সাথেই পদস্থকে জানান।
এতে ভুল সংশোধনের জন্যে পদক্ষেপ নেয়া সহজ হবে।
•
অন্যের ব্যর্থতাকে নয়, সাফল্যকে অনুসরণ করুন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিতার মুখে অন্য সহকর্মীর উদাহরণ দেবেন না যে, 'এই ভুল তো অন্যেরাও করে, শুধু আমাকে বলছেন কেন?'
•
অল্প সময়ে এত কাজ কীভাবে করব- এ মানসিকতা পরিহার করুন।
অপর্যাপ্ত সময়কে প্রতিবন্ধক মনে করবেন না। সময়কে সুপরিকল্পিতভাবে কাজে লাগান। এটিই সাফল্যের অন্যতম সূত্র।
•
নিজ প্রতিষ্ঠানের কাজগুলোকে নিজের কাজ ও আমানত মনে করুন।
•
উপরি আয়/ বাড়তি সুবিধা পেতে অন্যায়ভাবে ফাইল/ বিল বা কাজ আটকে রাখবেন না। নৈতিক মানদণ্ডে সৎ থাকলে প্রাকৃতিকভাবে আপনি পুরস্কৃত হবেন। মনে রাখুন, নিজের কাজ সবচেয়ে ভালোভাবে করাই প্রকৃত দেশপ্রেম।
•
নির্ধারিত সময়ের কমপক্ষে পাঁচ মিনিট আগেই কর্মস্থলে উপস্থিত হোন।
•
বাইরে অফিসিয়াল কোনো কাজ না থাকলে অফিসে প্রবেশের ও অফিস থেকে বের হওয়ার নির্দিষ্ট সময় অনুসরণ করুন।
•
মধ্যাহ্ন বিরতিতে বেশি সময় নেয়া, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া প্রায়শই অফিস শুরুর পরে আসা, নির্ধারিত সময়ের আগে অফিস ত্যাগ করা- এ ধরনের আচরণ বর্জন করুন।
•
নির্দিষ্ট বিরতির সময় ছাড়া ব্যক্তিগত কাজে অফিসের বাইরে যাবেন না। কোথাও গেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন।
•
প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট চাকরিবিধি জেনে নিন ও মেনে চলুন।
•
সহকর্মীর ই-মেইল, এসএমএস বা চিঠিপত্রের প্রত্যুত্তরে তৎপর হোন।
ফোনে আপনাকে না পেলে প্রথম সুযোগেই কল ব্যাক করুন।
•
অফিসের কাজে হলেও দীর্ঘক্ষণ ধরে ফোনালাপ এড়িয়ে চলুন।
•
জরুরি কাজের সময় অন্য ডিপার্টমেন্ট বা টিমের কেউ কোনো সাহায্য চাইলে তা করার আগে আপনার লিডারের অনুমতি নিন।
•
অন্য ডিপার্টমেন্ট বা টিমের কারো সহযোগিতা আপনার প্রয়োজন হলে আগে তার টিম লিডারের সাথে কথা বলুন।
•
সঠিক তথ্য-উপাত্তের জন্যে প্রত্যক্ষ উৎস বা মূল দায়িত্বশীলের সাথে যোগাযোগ করুন।
•
চাকরি ছাড়তে হলে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী আগেই কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন।
•
অফিসে নির্দিষ্ট ড্রেস কোড অনুসরণ করুন। ড্রেস কোড না থাকলেও নিজেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, মার্জিত, ভদ্র ও রুচিসম্মতভাবে উপস্থাপন করুন। মাথার চুল পরিপাটি রাখুন।
•
কর্মক্ষেত্রের ধরন অনুযায়ী মানানসই শালীন পোশাক পরিধান করুন।
কেননা আপনার পোশাক শুধু আপনাকেই নয়, তা আপনার প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেও তুলে ধরে।
•
অফিসে আইডি কার্ড যথাসম্ভব দৃশ্যমানভাবে ধারণ করুন।
•
হাঁটার সময় বেশি শব্দ হয় এমন জুতো ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
কড়া ঘ্রাণের সুগন্ধির চেয়ে হালকা সুগন্ধি ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়।
•
সহকর্মীর পোশাক ও সাজসজ্জা নিয়ে আপত্তিকর/ বিব্রতকর মন্তব্য করবেন না।
•
নিজের ডেস্ক এবং ব্যবহার্য জিনিসপত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করুন।
•
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বোত্তমভাবে সম্পন্ন করতে হবে- এ মনোভাব নিয়ে কাজ করুন। অহেতুক কাজ জমিয়ে রাখলে তা একসঙ্গে করতে গিয়ে আপনাকেই হিমশিম খেতে হবে।
•
কাজ অনেক কিন্তু সময় কম, এমন হলে কাজগুলোকে 'জরুরি' ও 'গুরুত্বপূর্ণ'- দুটি তালিকায় আলাদা করুন। জরুরি কাজ আগে শেষ করুন। তারপর গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো নিয়ে ভাবুন।
•
কোনো কাজ না জানলে সেটা সহজভাবে স্বীকার করুন। কীভাবে কাজটি করতে হবে তা অভিজ্ঞদের কাছ থেকে নিঃসংকোচে জেনে নিন।
•
যে প্রতিষ্ঠানে বা ডিপার্টমেন্টে কাজ করছেন তার হালনাগাদ তথ্যসমূহ জেনে নিন।
•
কোনো কাজ করতে ব্যর্থ হলে অজুহাত দেবেন না। নিজের ভুল বা অক্ষমতা স্বীকার করে নিন এবং তা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করুন।
•
নিজের মধ্যে দীর্ঘসূত্রিতা ও কাজে অবহেলা অনুভব করলে প্রয়োজনে কর্মপ্রেমী ও নির্ভরযোগ্য কারো পরামর্শ নিন। নতুন উদ্যমে শুরু করুন।
•
জরুরি এসাইনমেন্ট ও হাতের কাজ শেষ করে অফিস ত্যাগ করুন। কোনো কাজ অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় রেখে যেতে হলে পরদিন প্রথম সুযোগেই তা নিয়ে বসুন।
•
ভাষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করুন। মাতৃভাষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দুয়েকটি ভাষাও আয়ত্ত করুন।
•
টিমওয়ার্কে আপনি প্রধান হলে টিম মেম্বারদের অবদানকে তুলে ধরুন এবং তাদেরকেও সাফল্যের অংশীদার করুন।
•
টিমওয়ার্ক বা দলগত কাজে দলের অংশ হিসেবে কাজ করুন।
এজন্যে দলের অন্য সদস্যদের চিন্তা, ধ্যানধারণার নেতিবাচক বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে কাজের লক্ষ্য নিয়ে ভাবুন এবং সেভাবে কাজ করুন।
•
টিমওয়ার্কের ক্ষেত্রে 'এটা তো আমি করি নি' বা 'আমার করার কথা নয়'- এ ধরনের কথা বলে দায় এড়াবেন না।
•
পেশা ও পরিবারের মধ্যে সুসমন্বয় করুন। কোনো একটির প্রতি অবহেলা আপনাকে অনেক পিছিয়ে দেবে।
•
অফিসকে বাসায় বা বাসাকে অফিসে নিয়ে আসবেন না। পেশাগত বা পারিবারিক দুশ্চিন্তা ও সমস্যা একটি যেন অপরটির শান্তিকে বিঘ্নিত না করে।
___________________
রেফারেন্স: শুদ্ধাচার
©Collected