কর্মক্ষেত্রে সফলতার চাবিকাঠি: দায়িত্ব, সৎ পরিশ্রম এবং পেশাগত শুদ্ধাচার

কর্মক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে হলে দায়িত্বশীলতা, সৎ পরিশ্রম এবং পেশাগত শুদ্ধাচার অপরিহার্য। কাজের প্রতি ভালবাসা ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে নিজের কাজ সম্পাদন করুন এবং সঠিক নৈতিক মান অনুসরণ করে প্রাকৃতিকভাবে পুরস্কৃত হোন।

প্রতিষ্ঠানে নিজের কাজকে পবিত্র দায়িত্ব মনে করুন।

দায়িত্ব নিতে শিখুন। কাজকে ভালোবাসুন। কাজের সুযোগ পেলে মন থেকে স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।

কর্মক্ষেত্রে কখনো বিরক্তি, বিরসভাব ও হতাশ চেহারায় থাকবেন না। বিরক্তিভাব কাজের বরকত নষ্ট করে দেয়। যত সমস্যা বা চ্যালেঞ্জই আসুক ইতিবাচক ও হাসিখুশি থাকুন।

কোথাও ইন্টারভিউ দিতে গেলে পূর্বতন কর্মস্থল সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করবেন না।

উপার্জনের উৎস সৎ ও শ্রমলব্ধ হলে কোনো কাজকেই হেয় মনে করবেন না।

বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ভাবতেই ব্যস্ত থাকবেন না। কাজ ফেলে রেখে এ নিয়ে সহকর্মীদের সাথে সমালোচনা-পর্যালোচনা করবেন না। নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যান। বর্তমান প্রতিষ্ঠান আপনার মূল্যায়ন করতে না পারলেও প্রাকৃতিকভাবে আপনি পুরস্কৃত হবেনই।

যথাযথ প্রয়াস না চালিয়ে 'কাজ হয়ে যাবে, সমস্যা নেই'- এ ধরনের বাক্য ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করুন।

মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। আপনার কাজে কোনো ধরনের ভুল হলে গোপন করবেন না। আপনি বুঝতে পারার সাথে সাথেই পদস্থকে জানান।

এতে ভুল সংশোধনের জন্যে পদক্ষেপ নেয়া সহজ হবে।

অন্যের ব্যর্থতাকে নয়, সাফল্যকে অনুসরণ করুন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিতার মুখে অন্য সহকর্মীর উদাহরণ দেবেন না যে, 'এই ভুল তো অন্যেরাও করে, শুধু আমাকে বলছেন কেন?'

অল্প সময়ে এত কাজ কীভাবে করব- এ মানসিকতা পরিহার করুন।

অপর্যাপ্ত সময়কে প্রতিবন্ধক মনে করবেন না। সময়কে সুপরিকল্পিতভাবে কাজে লাগান। এটিই সাফল্যের অন্যতম সূত্র।

নিজ প্রতিষ্ঠানের কাজগুলোকে নিজের কাজ ও আমানত মনে করুন।

উপরি আয়/ বাড়তি সুবিধা পেতে অন্যায়ভাবে ফাইল/ বিল বা কাজ আটকে রাখবেন না। নৈতিক মানদণ্ডে সৎ থাকলে প্রাকৃতিকভাবে আপনি পুরস্কৃত হবেন। মনে রাখুন, নিজের কাজ সবচেয়ে ভালোভাবে করাই প্রকৃত দেশপ্রেম।

নির্ধারিত সময়ের কমপক্ষে পাঁচ মিনিট আগেই কর্মস্থলে উপস্থিত হোন।

বাইরে অফিসিয়াল কোনো কাজ না থাকলে অফিসে প্রবেশের ও অফিস থেকে বের হওয়ার নির্দিষ্ট সময় অনুসরণ করুন।

মধ্যাহ্ন বিরতিতে বেশি সময় নেয়া, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া প্রায়শই অফিস শুরুর পরে আসা, নির্ধারিত সময়ের আগে অফিস ত্যাগ করা- এ ধরনের আচরণ বর্জন করুন।

নির্দিষ্ট বিরতির সময় ছাড়া ব্যক্তিগত কাজে অফিসের বাইরে যাবেন না। কোথাও গেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন।

প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট চাকরিবিধি জেনে নিন ও মেনে চলুন।

সহকর্মীর ই-মেইল, এসএমএস বা চিঠিপত্রের প্রত্যুত্তরে তৎপর হোন।

ফোনে আপনাকে না পেলে প্রথম সুযোগেই কল ব্যাক করুন।

অফিসের কাজে হলেও দীর্ঘক্ষণ ধরে ফোনালাপ এড়িয়ে চলুন।

জরুরি কাজের সময় অন্য ডিপার্টমেন্ট বা টিমের কেউ কোনো সাহায্য চাইলে তা করার আগে আপনার লিডারের অনুমতি নিন।

অন্য ডিপার্টমেন্ট বা টিমের কারো সহযোগিতা আপনার প্রয়োজন হলে আগে তার টিম লিডারের সাথে কথা বলুন।

সঠিক তথ্য-উপাত্তের জন্যে প্রত্যক্ষ উৎস বা মূল দায়িত্বশীলের সাথে যোগাযোগ করুন।

চাকরি ছাড়তে হলে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী আগেই কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন।

অফিসে নির্দিষ্ট ড্রেস কোড অনুসরণ করুন। ড্রেস কোড না থাকলেও নিজেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, মার্জিত, ভদ্র ও রুচিসম্মতভাবে উপস্থাপন করুন। মাথার চুল পরিপাটি রাখুন।

কর্মক্ষেত্রের ধরন অনুযায়ী মানানসই শালীন পোশাক পরিধান করুন।

কেননা আপনার পোশাক শুধু আপনাকেই নয়, তা আপনার প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেও তুলে ধরে।

অফিসে আইডি কার্ড যথাসম্ভব দৃশ্যমানভাবে ধারণ করুন।

হাঁটার সময় বেশি শব্দ হয় এমন জুতো ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

কড়া ঘ্রাণের সুগন্ধির চেয়ে হালকা সুগন্ধি ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়।

সহকর্মীর পোশাক ও সাজসজ্জা নিয়ে আপত্তিকর/ বিব্রতকর মন্তব্য করবেন না। 

নিজের ডেস্ক এবং ব্যবহার্য জিনিসপত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করুন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বোত্তমভাবে সম্পন্ন করতে হবে- এ মনোভাব নিয়ে কাজ করুন। অহেতুক কাজ জমিয়ে রাখলে তা একসঙ্গে করতে গিয়ে আপনাকেই হিমশিম খেতে হবে।

কাজ অনেক কিন্তু সময় কম, এমন হলে কাজগুলোকে 'জরুরি' ও 'গুরুত্বপূর্ণ'- দুটি তালিকায় আলাদা করুন। জরুরি কাজ আগে শেষ করুন। তারপর গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো নিয়ে ভাবুন।

কোনো কাজ না জানলে সেটা সহজভাবে স্বীকার করুন। কীভাবে কাজটি করতে হবে তা অভিজ্ঞদের কাছ থেকে নিঃসংকোচে জেনে নিন।

যে প্রতিষ্ঠানে বা ডিপার্টমেন্টে কাজ করছেন তার হালনাগাদ তথ্যসমূহ জেনে নিন।

কোনো কাজ করতে ব্যর্থ হলে অজুহাত দেবেন না। নিজের ভুল বা অক্ষমতা স্বীকার করে নিন এবং তা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করুন।

নিজের মধ্যে দীর্ঘসূত্রিতা ও কাজে অবহেলা অনুভব করলে প্রয়োজনে কর্মপ্রেমী ও নির্ভরযোগ্য কারো পরামর্শ নিন। নতুন উদ্যমে শুরু করুন।

জরুরি এসাইনমেন্ট ও হাতের কাজ শেষ করে অফিস ত্যাগ করুন। কোনো কাজ অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় রেখে যেতে হলে পরদিন প্রথম সুযোগেই তা নিয়ে বসুন।

ভাষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করুন। মাতৃভাষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দুয়েকটি ভাষাও আয়ত্ত করুন।

টিমওয়ার্কে আপনি প্রধান হলে টিম মেম্বারদের অবদানকে তুলে ধরুন এবং তাদেরকেও সাফল্যের অংশীদার করুন।

টিমওয়ার্ক বা দলগত কাজে দলের অংশ হিসেবে কাজ করুন।

এজন্যে দলের অন্য সদস্যদের চিন্তা, ধ্যানধারণার নেতিবাচক বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে কাজের লক্ষ্য নিয়ে ভাবুন এবং সেভাবে কাজ করুন।

টিমওয়ার্কের ক্ষেত্রে 'এটা তো আমি করি নি' বা 'আমার করার কথা নয়'- এ ধরনের কথা বলে দায় এড়াবেন না।

পেশা ও পরিবারের মধ্যে সুসমন্বয় করুন। কোনো একটির প্রতি অবহেলা আপনাকে অনেক পিছিয়ে দেবে।

অফিসকে বাসায় বা বাসাকে অফিসে নিয়ে আসবেন না। পেশাগত বা পারিবারিক দুশ্চিন্তা ও সমস্যা একটি যেন অপরটির শান্তিকে বিঘ্নিত না করে।

___________________

রেফারেন্স: শুদ্ধাচার

©Collected

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url